আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন

ক্রিকেট

৬ মাস আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলবেন না তামিম

বেশ কিছুদিন ধরেই নানান গুঞ্জনে তামিমকে নিয়ে মহল গরম হয়েছে উঠেছে ক্রিকেট প্রাঙ্গণে। গত দুদিন আগেই বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন বলেছিলেন, তামিম আর টি-টোয়েন্টি খেলতে চান না। তবুও এ বিষয়ে তামিমের মুখ থেকেই কথা শুনতে অধীর আগ্রহে ছিলেন ক্রিকেটপ্রেমীরা। আজ এক সংবাদ সম্মেলনে এসব প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে তামিম জানান, আগামী ছয় মাস আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলবেন না তিনি।

২০২০ সালের মার্চ মাসে বাংলাদেশের জার্সি গায়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি খেলেন তামিম ইকবাল। সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও নিজের প্রস্তুতির ঘাটতি এবং দলে নতুনদের সুযোগ দেওয়ার কারন দেখিয়ে নিজেকে সরিয়ে নেন বিশ্বকাপ একাদশ থেকে।

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে নিজ দল মিনিস্টার ঢাকার হয়ে আজ বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান,  ‘কয়েক দিন ধরে আমার টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ার নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। আমার সঙ্গে গত কয়েক দিনে সভাপতি (নাজমুল হাসান), জালাল ভাই (ক্রিকেট পরিচালনা কমিটির প্রধান জালাল ইউনুস), (বোর্ড পরিচালক) কাজী এনাম ভাইদের সঙ্গে বিভিন্নভাবে অনেক জায়গায় বৈঠক হয়েছে। উনারা অবশ্যই চাচ্ছেন যাতে আমি অন্তত বিশ্বকাপ পর্যন্ত টি টোয়েন্টি চালিয়ে যাই। আমার ব্যাপারটা আলাদা ছিল। সবাই মিলে যেটা ভালো হয় সে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আগামী ছয় মাস আমি (আন্তর্জাতিক) টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট নিয়ে ভাবছি না।’

তাহলে এই সময়ে কি পরিকল্পনা মাথায় ঘুরছে তার এমন প্রশ্নের জবাবে তামিম বলেন, ‘এই কয়েক মাস আমার পুরো মনোযোগ থাকবে টেস্ট ও ওয়ানডেতে।’

তবে ৬ মাস শেষে দলের প্রয়োজনে আবারো ফিরে আসতে পারেন তিনি। ‘আশা করি এই ছয় মাসে তরুণেরা এত ভালো খেলবে যে আমার আর প্রয়োজন পড়বে না। তারপরও ছয় মাস পর যদি এমন সময় আসে যে ক্রিকেট বোর্ড, নির্বাচক বা টিম ম্যানেজমেন্ট মনে করে বিশ্বকাপের আগে আমাকে দরকার, আমিও যদি প্রস্তুত থাকি, তখন আবার এটা নিয়ে আলাপ হবে। কিন্তু এই ছয় মাস নয়।’- যোগ করেন তিনি।

মান অভিমান থেকেই এমন পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে বলে গুঞ্জন রয়েছে। তবে সে বিষয়টিকে উড়িয়ে দিয়েই তিনি বলেন, ‘মান-অভিমান নিয়ে অনেক কথাই হয়। এখানে মাস-অভিমানের জায়গা অতটুকু নেই। আমি যে সিদ্ধান্তটা নিয়েছি এটা পুরোপুরি ক্রিকেটীয় চিন্তা ভাবনা থেকে। এখানে কোনো বিতর্কের জায়গা নেই।’

তবে কেনো টি-টোয়েন্টি খেলছেন না, সে বিষয়টিও পরিষ্কার করেন তিনি। তামিম বলেন, ‘অনেক ক্রিকেটারই (টেস্ট ও ওয়ানডের) আগে টি-টোয়েন্টি ছেড়েছেন। বড় বড় ক্রিকেটাররাও এমনটা করেছেন। ওয়ানডে আমাদের সবচেয়ে প্রিয় সংস্করণ, খুব উপভোগ করি এটা। টেস্ট ক্রিকেট এমন একটা সংস্করণ…যখন থেকে ক্রিকেট ব্যাট ধরা শুরু করেছি, তখন দুটি ইচ্ছে ছিল—বাংলাদেশের হয়ে খেলব এবং টেস্ট খেলব।’

তামিমের কথায় বোঝাই যাচ্ছে টেস্টকে খুবই গুরত্ব দিচ্ছেন তিনি। এর কি কারন থাকতে পারে, সে বিষয়েও স্পষ্ট ধারণা দেন এই ওপেনার ব্যাটসম্যান। তিনি বলেন, ‘আপনারা জানেন টেস্ট ক্রিকেটের মূল্যটা কেমন। হয়তো এই সংস্করণে আমরা খুব শক্তিশালী দল নই। কিন্তু এখানে একটা সেঞ্চুরি বা ফিফটির মূল্য অন্যরকম। টেস্ট আমি যত দিন সম্ভব খেলে যেতে চাই। আমার বয়স ৩৩। ৩৪-৩৫ এ অনেকের অভিষেক হয়। তারা আরও পাঁচ বছর খেলে। আমার এখনো চার-পাঁচ বছর আছে ভালো ক্রিকেট খেলার। আমার পারফরম্যান্স ও ফিটনেস ঠিক থাকলে আরও চার-পাঁচ বছর খেলব।’

মন্তব্য করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Advertisement

আরো দেখুন ক্রিকেট