আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন

ক্রিকেট

তরুণদের উপর চরম হতাশ সুজন – সালাউদ্দিন

এবারের বিপিএলে অভিষিক্ত হয়েছেন অনেক নতুন খেলোয়াড়। কেউ কেউ দারুন পারফরম্যান্স দেখিয়ে দর্শক আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়েছেন, কেউ বা আবার করেছেন হতাশ। বিপিএলের এবারের ফাইনালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের হয়ে ফরচুন বরিশালের বিপক্ষে শ্বাসরুদ্ধকর এক খেলায় শেষ ওভারে ১০ রান আটকে দিয়েছেন তরুন পেসার শহিদুল ইসলাম।

দর্শকের চোখে তা অবশ্যই ভালো লক্ষণ। ডেথ ওভারে নতুনরা ম্যাচ জেতানো শিখছে। কিন্তু আসলে কি ব্যাপারটা এরকমই? তাদের বিপক্ষে যারা খেলছেন তারা কি তামিম, মুশফিক, সাকিবদের মতো ম্যাচ জিতিয়ে উঠতে পারছেন?

ক্রিকেটে দিনের পর দিন নতুন মুখের দেখা পাচ্ছে ক্রিকেট ভক্তরা। কিন্তু এখন পর্যন্ত এমন একজন ব্যাটার কি পাওয়া গেছে যে কিনা তামিম ইকবালের সাথে কাধে কাধ মিলিয়ে বাংলাদেশ দলে সমান তালে ওপেনিংয়ে ভালো করতে পারবে? কিংবা এমন কোন ব্যাটার কি তৈরি হয়েছে যারা কিনা প্রতিকূল পরিবেশে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়ে ধারাবাহিক দলকে জয় এনে দিতে পারবে?

সেদিক থেকে নতুনরা তা করতে পারেন নি। বিশেষ করে যাদের কাছে প্রত্যাশা বেশি। যারা কিনা জাতীয় দলে কিংবা এর আশেপাশে নিয়মিত যাতায়াত করছেন।

এক ম্যাচে শেষ ওভারে দুই ছক্কা হাঁকিয়ে ম্যাচ জেতানো শুভাগত হোম কোন ফরম্যাটেই নেই জাতীয় দলে। কিন্তু যারা জাতীয় দলের বিবেচনায় আছেন কিংবা যাদের কাছে প্রত্যাশা বেশি, তাদের এমন সামর্থ্য আছে কিনা তা নিয়ে আছে বড় প্রশ্ন।

আর নতুনদের এই না পারায় হতাশ বরিশাল দলের প্রধান কোচ খালেদ মাহমুদ সুজন। ফাইনাল শেষ হওয়ার পর মিডিয়ার সামনে সোজাসাপটা কথা সুজনের। তিনি বলেন, ‘আমরা যাদের দিকে তাকিয়ে আছি, তাদের অবস্থা কিন্তু ভালো নয়। তারা শেষ ১২ বলে একটি বাউন্ডারি হাঁকাতে পারে না! এটা ভাবা যায়?’

জাতীয় দলের সবগুলো ফরম্যাটে নিজের অবস্থান তৈরি করে নেওয়া নাজমুল হোসেন শান্ত এবং যুব বিশ্বকাপ জয়ী, সকলের আকর্ষণ হয়ে উঠা তৌহিদ হৃদয়রা শুক্রবার ফাইনালে কুমিল্লার বিপক্ষে শেষ ১৮ বলে করতে পারেন নি ১৮ রান।

আর তাই সুজন আক্ষেপ করে প্রশ্ন ছোঁড়েন, ‘সম্ভাবনাময়দের যদি এ করুণ অবস্থা হয়, তাহলে দেশের ক্রিকেট আগাবে কাদের হাত ধরে? সত্যিই কি আমরা তাহলে এগিয়েছি?’

একই রকম আক্ষেপ দেখা যায় কুমিল্লার কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের কন্ঠে। বিপিএলে তার দল চ্যাম্পিয়ন হলেও রাজ্যের হতাশা তার ভেতরেও। যদিও তরুন বোলার শহিদুল ফাইনালে শেষ ওভারে ১০ রান ডিফেন্ড করতে পেরেছে।

অবশ্য সালাউদ্দিন ভাবছেন অন্য বিষয় নিয়ে। তিনি ভাবছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের ভুল ত্রুটি নিয়ে। ক্রিকেটারদের এমন বাজে পারফরম্যান্সে দুষছেন নিজেদেরও। তার মতে হয়তো কোচাররাই সঠিক দিক নির্দেশনা দিতে পারছেন না খেলোয়াড়দের।

সালাউদ্দিন বলেন, ‘আমি নিজেই হতাশ। বারবার ভাবি তবে কি আমাদেরই ব্যর্থতা? আমরা কি যথার্থ কোচিং করাতে পারছি না? নাকি ভুল কোচিং করাই? তা না হলে আমাদের ছেলেরা পারে না কেন? খেলোয়াড়দের দোষ দিয়ে লাভ নেই। আমাদের হয়তো কোনো কিছু বদলাতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের নিজেদেরই হয়তো ক্রিকেটারদের মানসিকতা পাল্টাতে হবে। অন্য কিছু শেখাতে হবে। আমার কাছে সবচেয়ে দুঃখ লাগে, মনে করেন একটি ছেলে ১০ বছর ধরে ক্রিকেট খেলছে। সে ১০ বছর আগে যে ভুল করতো, এখনও তাই করে।’,

সালাউদ্দিন যোগ করেন, ‘তাহলে তার কী অভিজ্ঞতা হলো? তাকে যদি দীর্ঘদিন পরও বলে দিতে হয় এই লাইনে, এখানে বল কর। নিজের থেকে অ্যাডজাস্ট করতে পারে না। অন্য দেশের ক্রিকেটারদের একবার বললেই তারা বুঝে যায় কী করতে হবে? বারবার ভুল করে না। তাই মনে হয় আমাদের কোচিং প্রক্রিয়াটিই তাহলে ভুল।’

মন্তব্য করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Advertisement

আরো দেখুন ক্রিকেট